বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় শূন্যতা পূরণ এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল থাকবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে যুক্তরাজ্য থেকেই তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে তার দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়, যা এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :